নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুইটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীদের গুলিতে ৪৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির পুলিশ প্রধান মাইক বুশ। নিহতদের মধ্যে অন্তত দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রথমে মৃতের সংখ্যা ২৭ ও পরে ৪০ জন বলা হলেও আরো কয়েকজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান।

এদিকে হামলায় জড়িত থাকা অস্ত্রধারী কেউ এখনো শহরে রয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। ক্রাইস্টচার্চ শহরের বাসিন্দাদের বলা হয়েছে ঘরের বাইরে না বেরুবার জন্য। এছাড়া, মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের হেরাল্ড পত্রিকা জানিয়েছে, ক্রাইস্টচার্চের তৃতীয় একটি স্থানেও গোলাগুলি ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরক থাকার সন্দেহে শহরটির হাসপাতালে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

ক্রাইস্টচার্চের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ এ ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলার জন্য পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, এটি হৃদয়বিদারক ঘটনা, অনেক লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়েছে।

এর আগে, শুক্রবার (১৫ মার্চ) দুপুরের দিকে জুম্মার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি পার্কের মসজিদ আল নূর ও শহরতলী লিনউডের মসজিদে হামলা চালায় একাধিক বন্দুকধারী। আল নূর মসজিদে প্রায় তিন শ মুসল্লি নামাজ পড়তে সমেবত হয়েছিল।

অনলাইনে হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে এক হামলাকারী। ভিডিওটিতে সে দাবি করে, এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা। হামলাকারী গুলি চালানোর সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রচার করেছে। তবে এই ভিডিওটি সাধারণ মানুষদের দেখতে নিষেধ করেছেন মনোবিদরা। ফেসবুকও ভিডিওটি রিমুভ করতে চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে।

এই ঘটনায় পুরো ক্রাইস্টচার্চে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। পুরো শহর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডারন এক সংবাদ সম্মেলনে এই দিনকে, নিউজিল্যান্ডের অন্যতম কালো দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here